জি-টুয়েন্টিফোর স্পেশাল রিপোর্টার
আজ ৯wW‡m¤^i গফরগাঁও মুক্ত দিবস
জি-টুয়েন্টিফোর :জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ঐতিহাসিক ৭ই মর্াচের ভাষণের gva¨‡g¯^vaxbZvi ডাক দিলে বাংলার ঘরে ঘরে শুরু হয় ¯^vaxbZvKvwg মানুষের সর্াবিক যুদ্ধের প্রস্তুতি । তখন পিছিয়ে থাকেনি গফরগাঁওয়ের মুক্তিকামি মানুষ । এখানকার আওয়ামীলীগ দলীয় জাতীয় সংসদ সদস্য আবুল হাসেম ,শহীদ বেলাল আহম্মেদসহ আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধাদের সংগঠিত করে যুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু হয় । ঘরে ঘরে উৎকলিত হয় ¯^vaxb বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত লাল সবুজের পতাকা । প্রত্যেক ইউনিয়নে গঠন করা হয় সংগ্রাম পরিষদ ও মুক্তিযুদ্ধা ট্রেনিং সেন্টার । ১৭ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৯টায় পাকিসত্মানি হানাদার বাহিনীর ২টি জঙ্গী বিমান গফরগাঁও বাজারের নিরীহ মানুষের উপর হামলা চালায় । একঘন্টার ব্যবধানে দুটি হামলায় বোমা নিক্ষেপসহ বিমান থেকে ঝাঁকে ঝাঁেক মেশিনগানের গুলি বর্ষণ করা হয় । রাসত্মায় লুটিয়ে পড়েন বহু নিরপরাধ মানুষ । এ হামলায় বহু ঘরবাড়ি, দোকানপাট পুড়ে ছাই হয়ে যায় । জীবনের শেষ দিন পর্যনত্ম পুঙ্গু হয়েছিলেন ঐ হামলায় আহত কয়েক শত নিরীহ মানুষ । এ ঘটনার পর থেকে সর্বাত্নক যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েন গফরগাঁও উপজেলার মুক্তিকামি মানুষ । অন্যদিকে পাকিসত্মানী হানাদার বাহিনী আলবদর আল শামছ ও রাজাকার বাহিনীর সহায়তায় গণ হত্যা নারী ধর্ষণ লুন্ঠন ও নির্যাতন চলতে থাকে । গফরগাঁও এলাকা ছিল মুক্তিযুদ্ধের ১১নং সেক্টরের অধীন । হানাদার বাহিনীর সঙ্গে গফরগাঁওয়ে বেশ কয়েকটি স্থানে সম্মুখ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এর মধ্যে রসুলপুর ইউনিয়নের আমলীতলা ,চরআলগী ,কন্যামন্ডল, বাশিয়া ,বাঘেরগাঁও দক্ষিন্নপাড়া ,সীমাখালী , নিগুয়ারীর যুদ্ধে পৃথক পৃথক ভাবে নেতৃত্ব দেন ইকবাল-ই-আলম (কামাল) ,সিরাজুলহক ,মফিজ আহম্মেদ, আনছার উদ্দিন মাষ্টার , হালিম উদ্দিন ,চাঁন মিয়া ও মুনজুর কাদেরসহ আরো কয়েকজন বীর মুক্তিযুদ্ধা ।এসব যুদ্ধে বহু পাকিসত্মানী সেনা ও রাজাকার নিহত হয় । শহীদ হন সেনা বাহিনীর (অব) মমতাজ উদ্দিন ,জহিরুল হক ও বেলাল আহমেদ সহ র্অধ শতাধিক মুক্তিযুদ্ধা ।পাকিসত্মানী হানাদার বাহিনী চর ষোলহাসিয়ার লঞ্চঘাটের ব্রহ্মপুত্র নদে নোঙর করা একটি পরিত্যাক্ত লঞ্চে নিরীহ মানুষদের ধরে এনে লঞ্চের কার্নিসে দাঁড় করিয়ে ৩ হাজারের বেশী মুক্তিযুদ্ধা ও সাধারণ মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে । এভাবে এখানে হত্যাকান্ডের অন্যতম বধ্যভুমিতে পরিণত হয় । ¯^vaxbZvi ৩৮ বছর পর এ বধ্যভূমিতে একটি স্মৃতি সৌধ নির্মাণের মাধ্যমে ¯^xK…Z করেছেন গফরগাঁওয়ের সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মর্কতা গৌতম কুমার |15b‡f¤^i সংঘটিত হয় চরআলগী ইউনিয়নের গণ হত্যা । পুরো ইউনিয়নের ১ হাজার ৪শত ৫০টি বসতবাড়ি পুড়ে সর্ম্পূণ ভুস্মীভুত করে পাকিসত্মানী হানাদার বাহিনী । নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করে ৪২ জন মানুষকে । এছাড়া গণ হত্যা সংঘটিত হয়েছে আঠারদানা ,প্রসাদপুর , বাঁশিয়াসহ প্রত্যনত্ম অঞ্চলের বহু এলাকায় |wW‡m¤^‡ii প্রথম সপ্তাহ থেকেই মুক্তিবাহিনী ও ভারতের মিত্র বাহিনীর চুড়ানত্ম হামলার মূখে পাকিসত্মানী হানাদার বাহিনী পশ্চাৎপসারণ করতে থাকলে দেশ চুড়ানত্ম বিজয়ের পথে এগিয়ে যায় । ৮ wW‡m¤^i সকালে ভালুকা হতে হানাদাররা তাদের পুষ্য রাজাকার আলবদর ও পার্শ্ববতী এলাকার সাধারণ মানুষ ও গরু ছাগল ধরে এনে নিরাপত্তা বেস্টনী তৈরী করে গফরগাঁওয়ের দিকে অগ্রসর হতে থাকে । এসময় তাদের ধাওয়া করে আফসার বাহিনীর একটি অংশেরমুক্তিযুদ্ধারা ঐ দিন গভীর রাতে গফরগাঁও রেল স্টেশনে রাজাকারদের র্আত চিৎকারে পার্শ্ববতী এলাকার মানুষ শংকিতলে ও বুঝতে পারে চুড়ানত্ম ভাবে কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে । হানাদার বাহিনী এদের ফেলে চলে যাওয়ায় চরম পরিনতির আশংকাই ছিল এদের আহাজারির মূল কারণ । ৯ wW‡m¤^i ভোর বেলা কিছু লোক ভয়ে বাজারে প্রবেশ করে টের পায় পাক বাহিনী আর নেই । মুক্ত হয়েছে গফরগাঁও । মুক্ত এলাকায় আসেত্ম আসেত্ম ভিড় জমাতে থাকে সাধারণ জনতা । খবর পেয়ে মুক্তিযুদ্ধাদের দল একে একে প্রবেশ করতে থাকে এলাকার মুক্ত মাটিতে । যুদ্ধের সময় হানাদারদের দখলকৃত সাহাবাড়ির রাজাকার ক্যাম্পে ধরা পড়ে ৩৫০ রাজাকার ও আলবদর । পরে এদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয় লামকাইন গ্রামে । গণরোষে নিহত হয় অনেক রাজাকার । কিছু পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় । এদিকে গফরগাঁও মুক্তিযুদ্ধা সংসদ কমান্ডের উদ্যোগে গফরগাঁও মুক্ত দিবস উপলক্ষে দিনব্যাপী কর্মসুচী গ্রহণ করেছে । তাদের কর্মসুচীর মধ্যে রয়েছে পতাকা উত্তোলন ,বিজয় র্যালী ,আলোচনা সভা । গফরগাঁও উপজেলা কমান্ডার ইকবাল-ঈ- আলম কামালের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব) হেলাল মোর্শেদ খান বীর বিক্রম ও প্রধান বক্তা ময়মনসিংহ -১০ (গফরগাঁও ) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন (অব) গিয়াস উদ্দিন আহমেদ এমপি এবং বিশেষ অতিথি বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের মহাসচিব এমদাদ হোসেন মতিন , বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের কার্যকরী কমিটির সদস্য চলচিত্র নায়ক মাসুদ পারভেজ (সোহেল রানা ) প্রমুখ । এছাড়া আলোচক বৃন্দ থাকবেন জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আলাল আহমেদ , উপজেলা চেয়ারম্যান ফাহমী গোলন্দাজ বাবেল ও গফরগাঁও পৌরসভার মেয়র এডভোকেট কায়সার আহমেদ ।
0 মন্তব্যসমূহ