গফরগাঁওয়ে বিএনপির মতবিনিময় ও গণসংযোগ
গফরগাঁও টুয়েন্টিফোর ঃ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এবি সিদ্দিকুর রহমান গতকাল শনিবার দিনভর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে মতবিনিময় ও প্রায় ২শতাধিক মোটর সাইকেল বহর নিয়ে ব্যাপক গণসংযোগ করেন । মতবিনিময় ও গণ সংযোগ চলাকালে বক্তব্য রাখেন ঃ পৌর বিএনপির সভাপতি মোঃ ফজলুল হক , উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ মোঃ ইসাহাক , উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শাহ আবদুল্লাহ আল মামুন , উপজেলা বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ছোয়াদুর রহমান ভুলু , উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মফিজুর রহমান খায়রুল , পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবদুস সালাম বেপারী , পৌর যুবদলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম রিপন , উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহিবুর রহমান নাসিম , উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবদুল আজিজ সাদেকসহ শ্রমিকদল সহ অন্যান্য অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ । এ বি সিদ্দিকুর রহমান বলেন , মহাজোট সরকারের
গফরগাঁওয়ে পুলিশী হয়রানীর শিকার ব্যবসায়ী
গফরগাঁও টুয়েন্টিফোর
পৌর শহরের টয়োটা মটরস লি: নামে গ্যারেজ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিককে পুলিশী হয়রানি শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।অভিযোগে জানা যায়, গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া থানা পুলিশ গফরগাঁও উপজেলার শিলাসী গ্রামের সালা উদ্দিন সুমনকে ওই থানায় মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে। কাপাসিয়া থানার এস আই রফিকুল ইসলাম নোটিস করে ওই থানার একটি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের নামে হয়রানি করছে বলেও অভিযোগে জানা যায়।গ্যারেজের মালিক সুমন জানায়, ব্যবসায়ী প্রতিপড়্গ ষড়যন্ত্র করে তাকে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে।এ ঘটনায় ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার মাইক্রো মালিক সমিতি,পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ ড়্গোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন।-ফলো আপ-
গফরগাঁওয়ে যুবলীগ নেতা ইলিয়াস হত্যা কানড
৪০জনকে আসামী করে থানায় মামলা ঃ ৭ জন গ্রেফতার
গফরগাঁও টুয়েন্টিফোর ঃ আলোচিত যুবলীগ নেতা ইলিয়াস হত্যা কান্ডের ঘটনার ৪দিন পর শনিবার সকালে ৪০জনকে আসামী করে গফরগাঁও থানায় মামলা হয়েছে । মামলার বাদী হয়েছেন নিহতের মা জমিলা খাতুন ।
মামলার আসামী করা হয়েছে নিগুয়ারী ইউনিয়নের তললী গ্রামের র্শীষ সন্ত্রাসী ও আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৪০ সদস্যকে । আসামীরা হলো ঃ কামরুল পালোয়ান ওরফে হাতকাটা কামরুল , তার ভাই রুহুল পালোয়ান , শফিকুল ইসলাম ওরফে সমবাইয়া , এখলাছ ,রায়হান , মনজু , রিয়াজ , আবুল কাশেম , ইসমাইল এবং ইংরাজ ওরফে ইংগো ডাকাতসহ ৪০জন । পুলিশ হত্যা কান্ডের ঘটনার সাথে জড়িত ও মামলার এজাহারভূক্ত ৭ ডাকাতকে এ পর্যন্ত গ্রেফতার করেছে । গ্রেফতারকৃত ডাকাতরা হলো ঃ ইংরাজ ওরফে ইংগো (৪৫), আবুল কাশেম (৪০), নয়ন মিয়া (২৬) ,জামাল (১৮) , নাজিম উদ্দিন (৪৫) আবদুল গণি (৫০) ও মজনু খা (১৮) । মামলা সুত্রে জানা যায় , এলাকায় তিনি র্দীঘদিন ধরে চিহিুত চোর-ডাকাতদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল ইলিয়াস । চোর ডাকাতদের বিরুদ্ধে জোড়ালো অবস্থান নেয়ার কারণেই এলাকায় তার শক্রতা বেড়ে যায় । ২০০৯সালে 5†m‡Þ¤^i একদল চিহিৃত ডাকাতরা ইলিয়াসকে হত্যার উদ্যোশে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে মৃত ভেবে ফেলে যায় । এ ঘটনায় ইলিয়াস বাদী হয়ে নিগুয়ারীর চিহিত সন্ত্রাসী আওয়ামী নেতা কামরুল ইসলাম ওরফে হাত কাটা কামরুল ,তার ভাই রুহুল আমিন ও আলা উদ্দিন , আন্তঃজেলা ডাকাতদলের সদস্য শফিকুল ইসলাম ওরফে সমবাড়িয়া , এখলাছ ও রায়হানসহ ৩৭জনের বিরুদ্ধে গফরগাঁও থানায় মামলা দায়ের করে । মামলা দায়েরের পর থেকে ইলিয়াসকে বিভিন্ন সময়ে এলাকায় চিহিত সন্ত্রাসী ও ডাকাতরা হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল । ঘটনার রাতে গত মঙ্গলবার দুপুরে ইলিয়াসের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে বাড়িতে ডাকাতি ও হত্যার হুমকি দেয় । পরে ঐদিন রাত আনুমানিক ১টার দিকে প্রায় শতাধিক চিহিৃত ডাকাত বাড়িতে হামলা চালায় । ডাকাতরা ঘরের দরজা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে ঘরের আসবাবপত্র ভাংচুর ও নগদ টাকাসহ কয়েক লাখ টাকার মালামাল লুট করে নেয় । এ সময় ডাকাতদের ভয়ে নিজেকে বাচাঁতে ইলিয়াস ঘরের বাথরুমে ভিতরে আশ্রয় নিলে ডাকাতরা বাথ রুমের ইটের দেয়াল ভেঙ্গে তাকে গুলি ও জবাই করে হত্যার পর মাথা কেটে নিয়ে যায় ।
কে এই কামরুল ঃ নিগুয়ারী ইউনিয়নের তললী গ্রামের আলা উদ্দিনের বড় ছেলে কামরুল পালোয়ান । ছোট বেলা থেকেই সে ছিল উশৃখল। রাজনৈতিক ভাবে কামরুল ওরফে হাত কাটা কামরুল ছিল আওয়ামী পরিবারের লোক । বড় হওয়ার পর সে নিজেকেও সম্পৃক্ত হয় আওয়ামী রাজনীতির সাথে । ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর রাজনৈতিক নেতাদের ছত্র ছায়ায় কামরুল হয়ে উঠে আরো বেপোরোয়া া । তার নামে এলাকায় গড়ে নিজস্ব বাহিনী ।শুরুকরে সন্ত্রাস ,চাদাবাজি , ডাকাতি ও নারী ধর্ষণের মতো জঘন্যতম ঘটনা । কামরুল ও তার বাহিনীর অত্যাচার নির্যাতন এবং সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের ফলে উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের পুরো নিগুয়ারী ইউপির লোকজন জিম্মি হয়ে পড়েছিল। আওয়ামীলীগ ক্ষমতাচুত্ত্য হওয়ায় ২০০১ সালে জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর ক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী কামরুলকে ধরে নিয়ে দুটি হাত কেটে ফেলে। এরপর থেকে তার নাম হয় হাতকাটা কামরুল।সে থেকে কামরুল হয়ে উঠে আরো বেপোরোয়া ।তার নেতৃত্বে চোর-ডাকাতদের নিয়ে এলাকায় গড়ে উঠে এক বিশাল বাহিনী।এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের ঘটনাকে কেন্দ্র নিয়ে ২০০৮ সালে এপ্রিল মাসের নিগুয়ারী ইউনিয়নের পাতলাশী গ্রামের প্রভাবশালী বিএনপি নেতা নুরুল হক খানকে হত্যা করে সে আবারও আলোচনায় চলে আসে। এরপর হত্যার উদ্দেশ্যে ২০০৯ সালের এপ্রিল মাসে কামরুল বাহিনীর লোকজন হামলা চালায় নিহত যুবললীগ নেতা ইলিয়াসের উপর। সে সময় ইলিয়াস প্রাণে বেচে গেলেও এবার তার মৃত্যু নিশ্চিত করতে মাথা কেটে নিয়ে যায় কামরুল ইসলাম ওরফে হাতকাটা কামরুল বাহিনীর ডাকাত দলের সদস্যরা। পুলিশ জানান,কামরুল পালোয়ান ওরফে হাতকাটা কামরুলের বিরুদ্ধে হত্যা,চাদাবাজি,ডাকাতি,ধর্ষনসহ এক ডজন মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে।পুলিশ আরো জানায়,কামরুলের বিরুদ্ধে আর্ন্তজাতিক চোরাকারবারীদের সাথেও তার সখ্যতা রয়েছে।
তদন্ত সেল গঠনঃ নিহত যুবলীগ নেতা ইলিয়াসের হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন এবং গ্রেফতারকৃত আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট্য একটি তদন্ত সেল গঠন করা হয়েছে। তদন্ত সেলের প্রধাণ করা হয়েছে ময়মনসিংহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জোবায়েদুর রহমান।সেলের অন্য সদস্যরা হলেন ঃ গফরগাঁও সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার হায়াতুল ইসলাম খান,গফরগাঁও থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) সাইফুল ইসলাম ফরাজি,দুই ময়মনসিংহ পুলিশের গোয়েন্দা শাখার এসআই সাইফুল ইসলাম,ময়মনসিংহ জেলাপুলিশের বিশেষ শাখার এসআই মনিরুজ্জান।
খন্ডিত মাথা উদ্ধার হয়নিঃ হত্যা কান্ডের ৫ দিন অতিবাহিত হলেও যুবলীগ নেতা ইলিয়াসের খন্ডিত মাথা এখনও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। গফরগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ ওমর ফারুক(ওসি) জানান,যুবলীগ নেতার খন্ডিত মথা উদ্ধারের জন্য র্যাব,পুলিশ ছাড়াও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন কাজ করে যাচ্ছে।

0 মন্তব্যসমূহ